বামেদের সঙ্গ ছেড়ে তৃণমূলের সঙ্গ, জোটের জটিল অঙ্কে পড়লেন রাহুল গান্ধী

0
248

মেট্রোলাইভ নিউজ ডেস্ক: ‘১৯ লোকসভা নির্বাচনে তাল কাটলেও এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ আবহে লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে টিকেছিল বাম-কংগ্রেস জোট। কিন্তু ভোটের পর আবার তাল কাটলো সেই জোটে। এখন ২৪শে’র অঙ্ক কষতে বসে মমতার হাত ধরতে চাইছেন রাহুল গান্ধীরা। খুব সহজ বলতে গেলে বামেদের অবস্থান যাই ই থাকুক না কেন মমতাতেই সবুজ সংকেত দিচ্ছেন ২৪ আকবর রোডের নেতারা। বুধবার ১০ জনপদে রাহুল উপস্থিতিতে সোনিয়া-মমতা’র বৈঠক থেকে এই মুহূর্তে অন্তত তেমনটাই নির্যাস উঠে আসছে। কিন্তু প্রশ্ন হল বাম সঙ্গ ছেড়ে তৃণমূলের সঙ্গ ধরতে অধীরবাবুদের অসুবিধা হবে না তো?

জাতীয় রাজনীতিতে রাহুল গান্ধীর থেকেও নেতৃত্বের দিক থেকে অনেক বেশী মান্যতা পেয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। কারণ, অনেক ঝড় ঝাপটা সামলে দু’দফায় ইউপিএ পরিচালনা করেছিলেন তিনি। তাই সোনিয়ার তলবে দিল্লি ছুটে যান শরদ পাওয়ার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা। কিন্তু রাহুল গান্ধীর ওপর সেই ভরসা করতে পারেননা মমতা বা শরদ পাওয়ার। আবার অন্যদিকে দেখতে গেলে, বামেদের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সখ্যতা অনেক বেশী। কলকাতার রামলীলা ময়দানে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে একমঞ্চে দেখা গিয়েছিল রাহুল গান্ধীকে৷ তারও অনেক আগে তো কেন্দ্র সরকার চালিয়েছেন বাম এবং কংগ্রেস।

সম্প্রতি ভরাডুবি অবস্থা হলেও রাজ্যে আন্দোলন থেকে ব্রিগেডের মঞ্চ একসঙ্গে দেখা গিয়েছে বাম- কংগ্রেসকে। আবার সেই পালে হাওয়া দিয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বামফ্রন্টের অনেক কর্মীদের কথায় কংগ্রেস নিয়ে তাঁদের কোনও দ্বিমত ছিল না। কিন্তু আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না অনেকেই। সেকারণেই বিপর্যয়। একই কথা কংগ্রেস কর্মীদের মুখেতেও। তবে বিপর্যয় থেকে দলকে পুনরায় উদ্ধার করতে মমতার হাত ধরলেন কংগ্রেস হাইকম্যান্ড? একথা এখনই বলা সম্ভব নয়। বিশেষ করে প্রয়াত প্রণব পুত্রের তৃণমূলের ফিরে আসা এবং প্রয়াত সোমেন মিত্রের পুত্রের দলের পদ ত্যাগ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজ্য নেতৃত্বের ভুমিকা নিয়ে। শোনা যাচ্ছে দলীয় সংগঠন এবং তৃণমূলের সঙ্গে জোটের কথা মাথায় রেখে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে বদল আনা হতে পারে৷ সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে কোনও ইশারা করেনি বঙ্গভবন। আপাতত পুরোটাই হাইকম্যান্ডের কোর্টে দিয়েছেন বঙ্গ কংগ্রেস নেতারা।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে বামেদের অবস্থান কী হবে? একে গোপালান ভবনের তরফেও কোনও আভাস মেলেনি। বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু মুখ খুললেও চুপ রয়েছেন আলিমুদ্দিনের নেতারা। তবে আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন তৃণমূলের সঙ্গে জোট কখনই সম্ভব নয়। তবুও ২৪ এর নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে মমতা যদি বিরোধী জোটের মুখ হন তাহলে বাম এবং তৃণমূলের মধ্যে ব্যালেন্স করার বিষয়ে বিরাট দায়িত্ব বর্তাবে রাহুল গান্ধীর ওপরেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে