পুরুষ মন ও প্রাপ্তমনষ্ক প্রেম

1
1302

একটা ঝাঁঝালো প্রেম চেয়েছিলাম জানো,যে প্রেম হবে তীব্র শরীরী ও দায় দায়িত্বহীন।সে হবে এমনই প্রেম যে প্রেমে কারো উপর কারো কোনো অধিকার থাকবেনা..কোনো ঝগড়া ঝাঁটি,মান অভিমান কিচ্ছু না….সেই প্রেম হবে বৈশাখের গনগনে দুপুরে ধু ধু মাঠের পাশের কোনো অশ্লীল গন্ধ মাখা ডোবায় নেশাগ্রস্থ দুটি রাগি সাপের মৈথুনের মত বিষাক্ত।
বাই দ্য ওয়ে, সে হবে আদ্যন্ত সংসারি এক নারী। ভিড় ট্রেনে পুরুষ সহযাত্রীদের সঙ্গে গা ঘেঁসাঘেসি করে আর অ্যাডাল্ট জোক্স শেয়ার করে জানলার সিট দখল করা কোনো চৌখস স্মার্ট মেয়ে নয়,জিন্স টপ সিগারেট ও হানি সিং-চেতন ভগতের কম্বিনেশনের কোনো ছটফটে কুড়ি পঁচিশ ও না..
তার সকাল থেকে রাত আর রাত থেকে সকাল আর সকাল থেকে রাত ঘুরবে স্বামী সন্তান আর শ্বশুর শাশুড়ির সময়ে বাঁধা ঘুর্ণিপাকে।জোয়াল টানতে টানতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সে প্রাণপনে জানলার দিকে মুখ ফেরাবে একজানলা আলো আর একচিলতে ভালবাসার বাতাসের খোঁজে।
ঠিক তখনই আমার কবিতার তীক্ষ্ন ফলা ছিন্নভিন্ন করে দেবে ওর প্রেমিকা হৃদয়…
ফেসবুকের আনাচে কানাচে কোনো একদিন দেখা হয়ে যাবে আমাদের..আমরা হাসি আর আদর ছুঁড়ে ছুঁড়ে দেব ইনবক্সের আলো আঁধারি গোপনীয়তায়…একসময় আমার পৌরুষের স্যাডিষ্ট মায়াজালে বিদ্ধ করে ভিতু মেয়েটিকে টেনে আনব হোয়াটসঅ্যাপের নির্জনতায়,ভেঙে চুরে দেব যৌনতা নিয়ে তার আজন্মের সংস্কার।নিশির ডাকে পাওয়া ঘোর লাগা কিশোরীর মত সে শুধু অপেক্ষায় থাকবে আমার কুহক ডাকের।আমি ক্রমশ বিষাক্ত এক কাল কেউটে সাপের মত তার মনের গভীরে ঢুকে দংশনে দংশনে ক্ষতবিক্ষত করে দেব তার উপদ্রবহীন সুখের সংসার।
এরই মধ্যে কখন যেন ভালবেসে ফেলব ওকে।অভিমান ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ডে খুউউব মৃদু স্বরে বাজতে থাকা শচীন কত্তার জয়জয়ন্তী রাগের মত সে অনুভুতি শুধু আমারই।
তারপর একদিন গোপনে দেখা করব নজরুল তীর্থ কিংবা সিটি সেন্টার টু র সোনালি রঙের নির্লজ্জ শীতের দুপুরে।
সেদিন কফির কাপে কামুক ঠোঁট ছুঁইয়ে চোখের তারায় তারায় আর সবুজ রঙের বালুচরী র আঁচলে আঁচলে ছুঁড়ে দেব আর ছুঁয়ে দেব অজস্র আদরের শিউলিফুল।
সেই নারীর চোখ সেদিন তৃপ্তির ঘুমঘোরে জড়িয়ে আসবে হয়ত,তার যে সব পাওয়া হয়ে গেছে কিন্তু আমার শরীরে লাগাতার বিষাক্ত ছোবল মারতে থাকবে সেই কালকাউটে সাপ টা…..আমার শরীর চাই.. শরীর চাই..
———————————–যেভাবেই হোক একটি কামার্ত দুপুর আর একটি মাঝবয়সী আকাশ নেমে আসা দশফুট বাই দশফুট ঘর আমি খুঁজে আনবই পৃথিবীর শেষ স্টেশন থেকে…অপরূপা সেই আপাত সুখী নারীর সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে তার নগ্ন শরীরে তুলব কামনার কালবৈশাখী ঝড়।মেয়েটির কেয়াফুলের গন্ধ মাখা ঘেমে ওঠা শরীরে আগুন জ্বালতে জ্বালতে বিলকুল ভুলে যাব নিজের স্ত্রীর কথা। তার নারী র গহনে গহনে আমার উত্তপ্ত জিভের আহিরভৈঁরোয় অবশেষে জ্বালাবই জ্বালাব লেলিহান দাবানল..জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেব রজনীগন্ধার সুসজ্জিত বন।
তৃপ্তির ঘুমঘোর নেশাচ্ছন্ন করবে আমাদের..
//////////////////////////////////////
পরের দিন থেকে আর মেয়েটির সঙ্গে কথা বলব না।ফোন করলে বলব -সরি ডোন্ট ডিসটার্ব মি..তোমাকে আর ভালবাসিনা..
কোনো এক জলরঙ আলো মাখা মনখারাপ করা বিকেলে বালিশে মুখ গুঁজে সে ভাববে-এই স্যাডিষ্ট লোকটার ইন্টেলেকচুয়ালিজম আর রোমান্টিসিজম টা আসলে ভড়ং..আসলে লোকটা একটা হিপোক্রিট,ভন্ড,নোংরা আর সাইকো।

আমি কিন্তু ভিতরে ভিতরে কাঁদব…একা একা..আমি জানি ও বুঝবেনা..ও বুঝবেনা যে প্রতিদিনের প্রাত্যহিকতায় রঙ চটে যায়..ও বুঝবেনা যে আমাদের ভারহীন সম্পর্কের ঐ কটা মুহূর্তই আসলে সত্যি,ঐ কটা মুহূর্তই আসলে অমূল্য…আসলে ঐ কটা মুহূর্ত তেই আমি বেঁচে ছিলাম…না হলে কবেই তো মৃত্যুর খিড়কি দুয়ার দিয়ে আমি পালিয়ে গেছি কোন সুদুরে…
আর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এইটুকু ভেবে ভাল থাকব-ও চিরকাল আমাকে ভালবেসে যাবে–কারন আমিই যে ওকে আঘাত দিয়েছি।
দিন যায় রাত আসে…আগুন রঙের পৃথিবীতে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত অতৃপ্ত পুরুষ আবারও ঝাঁপ দেয় উত্তাল সমুদ্রে…শুনতে না চাইলেও একটা নাছোড়বান্দা জয় গোস্বামী জ্বালাতে থাকে পুরুষ কে………..পাগলি তোমার সঙ্গে চার অক্ষর জীবন কাটাব..পাগলি তোমার সঙ্গে ভালবাসা কাটাব জীবন॥

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে