একের পর এক বৈঠক, রাজধানী থেকে কার্যত খালি হাতেই ফিরছেন মমতা

0
394

মেট্রোলাইভ নিউজ ডেস্ক: মোদি বিরোধী জোট জল্পনার সলতে পাকানো শুরু হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবারের দিল্লি সফর। কথাও ছিল বিরোধী পক্ষের প্রায় সব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। তা হল না ঠিকই। তবে সমঝোতার প্রশ্নে কংগ্রেস হাইকমান্ড এর সবুজ সংকেত এক্ষেত্রে পেয়েই গেলেন মমতা। তার হাতেনাতে প্রমাণ মিলেছে পেগাসাস ইস্যুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে কংগ্রেসের ট্যুইট এবং ত্রিপুরায় আইপ্যাক কর্মীদের জামিনের জন্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির আদালতে আবেদন। আরও কিছুটা এগিয়ে দেখলে ভবানীপুরের আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী না দেওয়া। তবে এখনই এটা বলা ভুল হবে যে মমতার আবেদনে সাড়া দিয়ে এযাত্রায় জোটের অঙ্ক অনেকদুর এগিয়েছে। বিজেপি কে পর্যুদস্ত করে বাংলার জয়ের পর নিজেকে তিন মোদি বিরোধী প্রমাণ করতে পেরেছেন বলে মমতা কনফিডেন্ট হলেও সর্বভারতীয় সূত্রের রাজনীতির ময়দানে অন্যন্য বিজেপি বিরোধী দল বা তার নেতা নেত্রীদের তার আদৌ কতটা কনফিডেন্স জাগাতে পেরেছে বা পারবে তা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। মমতা নিজেও সেটা বুঝতে পেরেছেন। তিনি বুঝতে পারছেন যে এক ছাতার তলায় এনে সকলকে নিয়ে চা খাওয়ানোর কাজটা মোটেই সোজা নয়। এর আগেও দু’বার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা না হওয়ার এটা তৃতীয় প্রচেষ্টা। তাই লক্ষ্য পূরণ করতে একটু হোঁচটতো খেতেই হবে তাঁকে।

এক্ষেত্রে প্রথম অসুবিধা হল কংগ্রেসের মতো বড় দলকে নিয়ে। সারা দেশে যার বিস্তার। কোথাও সরকারে তো কোথাও বিরোধী পক্ষে। আবার কোথাও না থেকেও লড়াই জারি রয়েছে। তাহলে তো অবশ্যই প্রথমে আসবে কেজরিওয়াল বনাম কংগ্রেসের লড়াই। দু’পক্ষের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজটা মোটেই এতটা সুবিধের নয়। দ্বিতীয় অখিলেশের সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতা। বিরোধী বেঞ্চে একযোগে বসলেও অতীত অভিজ্ঞতা থেকে কোনো ভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা চান না অখিলেশ। উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে তো নয়ই। একই দ্রষ্টব্য দিয়ে রেখেছেন বসপা সুপ্রিমো মায়াবতীর ক্ষেত্রেও। সমস্যা তিন, কংগ্রেসের সঙ্গে শিরোমণি আকালি দলের সমঝোতা। এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে আসা শিরোমণি আকালি দলের সঙ্গে মমতার বোঝাপড়া তৈরি হলেও আকালি দলের কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলানোটা এই মুহূর্তে ভীষণ কঠিন কাজ।

আবার ঘুরিয়ে দেখলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা আর বামেদের এক ঘাটের জল খাওয়াতে গিয়ে হিমশিম খেতে হতে পারে রাহুল গান্ধীকে। যদিও দু’পক্ষের সঙ্গেই রাহুল গান্ধীর সখ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা নয়। এখানে কাজটা ত্রিপুরা থেকেই করতে চাইছে কংগ্রেস। তৃণমূলের জন্য কিছুটা রাজনৈতিক পরিসর ছেড়ে দিয়ে মাণিক সরকার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একই ছাতার তলায় নিয়ে আসা। সেটা শুরু হয়েছে। আইপ্যাক নিয়ে বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে মাণিক সরকারের চাঁচাছোলা মন্তব্য তা প্রমাণ করেছে। কিন্তু ২৩ আসতে আসতে সেই দরজা বন্ধ হয়ে যাবে না তো? কারণ, মমতার সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনায় দরজায় খিল দিয়েছে আলিমুদ্দিন।

মমতার গোটা দিল্লি সফরে অবাক লাগল শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক না হওয়া নিয়ে। দিল্লিতে উপস্থিত থেকে লালু প্রসাদ যাদবের সঙ্গে বৈঠক সারলেন শরদ পাওয়ার। কিন্তু মমতার সঙ্গে কোনও সময় ব্যয় করলেন না। আবার মমতার মুখে লালু প্রসাদের প্রসঙ্গ উঠে এলেও তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাননি। বৈঠক হয়নি শিবসেনার সঙ্গেও। তবে উদ্ধভ ঠাকরের সঙ্গে মমতার বোঝাপড়া বরাবরই ভালো। দক্ষিণ ভারতে তেলেগু দেশম পার্টি, ডিএমকের সঙ্গে হাত মেলালেও কেসি রাও ও জগনমোহন রেড্ডির অবস্থান স্পষ্ট নয়। আপাতত কামাল হাসানের এমএনএম, এমডিএমকেকে সঙ্গে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে বিরোধী জোটকে৷

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর বললেন লিডার নয়, ক্যাডার হয়ে কাজ করতে চাই। আসলে সমস্ত দলকে এক ছাতার তলায় আনা এত সহজ কথা নয় সেটা মমতা ভালোই বুঝেছেন। আপাতত সকলকে বিরোধী বেঞ্চে আনার প্রক্রিয়া জারি রাখলেন। তবে ক্ষমতায় কে আসবে তা এখনই বলতে চাইছে না কেউই। তবে বিরোধীদের কড়া আক্রমণে চাপে পড়তে হচ্ছে বিজেপিকে৷ পেগাসাস থেকে শুরু করে কৃষক আইন, রাফালে, পেট্রোল ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং করোনা মোকাবিলা, বিরোধীদের আন্দোলনে জেরবার শাসক দল। এসবের মাঝেও স্থায়ী সরকারের দাবীতে আরও একবার পাল্লাভারি হতে পারে মোদি-শাহের৷ সেই সম্ভাবনা খুবই কম। দূর থাকতেও ড্যামেজ কন্ট্রোলে মরিয়া গেরুয়া শিবির। ২৪ শে’র গাড়ি ছাড়ল বলে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে