করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করে ফেলল ভারত, জুলাইতেই শুরু হচ্ছে মানব শরীরে প্রয়োগ

0
748

এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাস এর সঙ্ক্রমণে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যাও ৫ লক্ষের বেশি। এই পরিস্থিতিতে মারণ করোনা ভাইরাস এর প্রতিষেধক এর আবিষ্কার করতে এই মুহূর্তে আপ্রাণ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা সহ তামাম বিশ্বের তাবড় তাবড় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যাডক্স ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়ালের সফল প্রয়াগ এর খবর শিরোনামে আসে। আর এবার সেই ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিল ভারতও। হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেকের দাবি, ইতিমধ্যেই তার করোনা প্রতিরোধে কোভ্যাকসিন (‘covaxin’) তৈরি করে ফেলেছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি এবং আইসিএমআর-এর যৌথ উদ্যোগে এই ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। এই সংস্থা দাবি করেছে যে, প্রিক্লিনিক্যাল স্টাডিজে কোভ্যাকসিন নিরাপত্তা ও রোগপ্রতিরোধ সংক্রান্ত পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছে তারা। ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে মানব শরীরে তাদের এই ভ্যাকসিন এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন পেয়েছে সংস্থাটি। জুলাইতেই শুরু হচ্ছে মানব শরীরে কোভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ।

জানা গেছে, পুনের ভাইরোলজি দপ্তরে অত্যন্ত সতর্কতায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল SARS-CoV-2 এর ভাইরাসকে। পরে সেই ভাইরাস হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক এর ভ্যাকসিন তৈরির ল্যাবে স্থানান্তরিত করা হয়। হায়দরাবাদের জেনোম ভ্যালিতে অবস্থিত এই ভারত বায়োটেকের কারখানায় রয়েছে সম্পূর্ণ কনটেইনমেন্ট ফেসিলিটি। সেখানেই তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন যেখানে তিন স্তরের বায়ো সেফটি বলয় বিদ্যমান। এই ভাইরাস তৈরি প্রসঙ্গে সংস্থার চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডক্টর কৃষ্ণা এল্লা বলেন, অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি যে কোভিড-১৯ প্রতিরোধকারী ভারতের প্রথম নিজস্ব ভ্যাকসিন ‘কোভ্যাকসিন’ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভ্যাকসিন তৈরিতে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে আইসিএমআর ও পুনের ভাইরোলজি ল্যাব। ইতিমধ্যে সিডিএসসিও-র সমর্থন ও গাইডলাইনে প্রজেক্টটির অনুমোদনও মিলেছে। এই ভ্যাকসিন প্রস্তুত করতে আমাদের গোটা টিম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিরামহীনভাবে কাজ করেছে। এবং সরকারি বিধি মেনে প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও সম্পন্ন হয়েছে। যার ফলাফল সন্তোষজনক, সেখানে রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগীর নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত হয়েছে।

ভবিষ্যত মহামারী প্রতিরোধে ভারত বায়োটেক এর জাতীয় গুরুত্বকে মাথায় রেখেই এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। ভ্যাকসিন তৈরিতে ভারত বায়োটেকের ট্র্যাক রেকর্ড সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে । জিকা ভাইরাসের ভ্যাকসিন, পোলিও-র ভ্যাকসিন, চিকুনগুনিয়ার ভ্যাকসিন, জাপানি এনসেফেলাইটিসের ভ্যাকসিন, রোটা ভাইরাসের ভ্যাকসিন, ব়্যাবিজের ভ্যাকসিন তৈরিতে আগেই সফলতা অর্জন করেছে এই ভারত বায়োটেক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে