জেল বেল না গৃহবন্দী ? সুপ্রিম অনিশ্চয়তার বৃহত্তর বেঞ্চে মধ্যে শুরু হল নারদ মামলার শুনানি

0
99

মেট্রো লাইভ নিউজ ডেস্ক: জেল বেল না গৃহবন্দী ? নারদ মামলায় রাজ্যের ধৃত চার হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রীদের ভবিষ্যৎ কি তা নির্ধারণ করতে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানি নিয়ে তৈরি হল অনিশ্চয়তা। হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। তাই এই শুনানি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কি হয় এখন তা নিয়ে শুরু হয়েছে উৎকন্ঠা। আজ সকাল ১১টায় এই বৃহত্তর বেঞ্চেই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল এবং অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি এই বৃহত্তর বেঞ্চে থাকছেন বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, হরিশ ট্যান্ডন ও সৌমেন সেন। যদি বৃহত্তর বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয় তা হলে পুনরায় প্রথম থেকে শুনানি হবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। কারণ বৃহত্তর বেঞ্চের ৩ সদস্যই নতুন। ফলে পুরো মামলাটি না শুনে তাঁদের পক্ষেও মতামত দেওয়া অসম্ভব। তাই সোমবার গোড়া থেকেই নারদ-মামলার শুনানি হতে পারে।

এই মুহূর্তে জানা যাচ্ছে এদিন সকালেই সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এর কাছে সিবিআই আইনজীবী তুষার মেহেতা আবেদন করেন নারদ মামলাটির শুনানি যাতে বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। একসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে তাদের আবেদনের শুনানি চেয়ে আবেদন করেছে সিবিআই।

আইনজীবীরা বলছেন ৫ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ বসবেই। সেখানে সিবিআইকে জানাতে হবে, তারা বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে । তার পর ৫ বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন, এই মামলার শুনানি চলবে কি না। যদি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট এই শুনানির উপর স্থগিতাদেশ দেয় এবং সেটা সিবিআই সোমবার হাই কোর্টে দাখিল করতে পারে, তা হলে সোমবার শুনানি বন্ধ হতে পারে। আবার এমনও হতে পারে, সিবিআইয়ের কাছে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ নেই। সে ক্ষেত্রে হাই কোর্টের বেঞ্চ সিবিআইকে কিছু দিন সময় দিতে পারে স্থগিতাদেশ আনার ব্যাপারে। তবে ততদিন পর্যন্ত শুনানি হবে কি না, তাও নির্ভর করছে হাই কোর্টের বেঞ্চের উপর।

নারদ-কাণ্ডে ১৭ মে রাজ্যের ৪ নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে সিবিআই। গ্রেফতার হন দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক মদন মিত্র ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। ওইদিনই ধৃতদের জামিন দেয় সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। কিন্তু কলকাতা হাই কোর্ট নিম্ন আদালতের সেই রায়কে খারিজ করে দেয়। ফলে জেলেই ঠাঁই হয় অভিযুক্তদের। এরপর জামিনের আবেদনে দু’দিন ধরে শুনানি চলে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। গত শুক্রবার ধৃতদের জামিন নিয়ে হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি ছিল, করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হোক। যা নিয়ে আপত্তি জানান প্রধান বিচারপতি। শেষমেশ ওই মামলা বৃহত্তর বেঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এবং ততদিন ধৃতদের গৃহবন্দির নির্দেশ দেয় আদালত। এমনকি ওই দিনই গঠন করা হয় পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে