করোনার অ্যান্টিবডির কার্যক্ষম জানতে ইচ্ছাকৃত সংক্রমণ ঘটিয়ে ল্যাবে চলবে ট্রায়াল !

0
86

নিউজ ডেস্ক: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে গোটা বিশ্ব জুড়ে। এ দেশের এমন কোনও রাজ্য নেই যেখানে করোনা তার থাবা বসায়নি ৷ এমনকি আগে একবার আক্রান্ত হয়েছেন এমন মানুষ ও ফের আক্রান্ত হয়েছেন করোনার এই নতুন স্ট্রেনে। তাই আগে করোনা হয়েছে এমন ব্যক্তিদের দেহে ঠিক কতটা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কাজ করছে, কতটা অ্যান্টিবডি তৈরি হিয়েছে এবং সেটার কার্যকারিতা ঠিক কতটা তা খতিয়ে দেখতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ব্রিটেনে শুরু হচ্ছে এক বছর ব্যাপী এক নতুন ট্রায়াল।

এই নয়া ট্রায়ালের বিষয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষেধক বিশেষজ্ঞ হেলেন ম্যাকশেন একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের ল্যাবে সংক্রমণ ঘটানোর পরে পুরো পর্বটি নজরে রাখা হবে। সংক্রমণ ঘটার পরে শরীরে কী কী প্রতিক্রিয়া ঘটে, সবটা দেখা হবে।” ম্যাকশেনকে এই ধরনের ট্রায়ালের কারন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘‘এই ট্রায়াল করার অন্যতম কারণ, করোনা সংক্রমণের পর ঠিক কত দিন অবধি শরীরে তার অ্যান্টিবডি কার্যকরী থাকে, তা পরীক্ষা করে দেখা। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কাজকর্ম একবার বুঝে ফেলা গেলে এবং দ্বিতীয় সংক্রমণ আটকানো গেলে, আরও বেশি শক্তিশালী ও কার্যকরী ভ্যাকসিন তৈরি করা যাবে।”

সূত্রের খবর, এপ্রিল থেকেই এই ট্রায়ালের প্রথম পর্ব শুরু করা হবে। ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রত্যেকেই কমপক্ষে এক বার করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বয়সসীমা হল ১৮ থেকে ৩০। তাঁদের শরীরে ইচ্ছাকৃতভাবে আবার করোনা সংক্রমণ ঘটিয়ে দেখা হবে শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ঠিক কতটা শক্তিশালী হয়েছে আগের থেকে। একে বিশেষজ্ঞরা ‘চ্যালেঞ্জ ট্রায়াল’ নামে অভিহিত করেছেন।

প্রথমে দেখা হবে, কত পরিমাণ ভাইরাস সবচেয়ে কম সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তারপর সেই ভাইরাসের মাধ্যমে মোট ৬৪ জন সেচ্ছায় অংশগ্রহণকারীকে সংক্রমিত করা হবে। তারপর দেখা হবে তাদের শরীরে কী প্রতিক্রিয়া হয়। পরবর্তী দু’সপ্তাহ সারাদিন নজরবন্দি রাখা হবে ওই অংশগ্রহণকারীদের। হাসপাতালের একটি বিশেষ অংশের আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হবে এই অংশগ্রহণকারীদের। সিটি স্ক্যান, হার্টের এমআরআই স্ক্যান ইত্যাদি নানান রকমের পরীক্ষা করে দেখবে বিশেষজ্ঞরা।

যদিও অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, যাদের ইচ্ছাকৃত ভাবে করোনা সংক্রমিত করা হচ্ছে, তাদের থেকে যদি অন্য কেউ আক্রান্ত তখন ? এই প্রশ্নের উত্তরে এই অভিনব ট্রায়ালের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারীদের ভাইরাস-মুক্তির বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাঁদের হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে ছাড়া হবে। তার আগে ছাড়ার প্রশ্নই উঠছে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে