মঙ্গলকোটের তৃণমূল নেতা অসীম দাস খুনের ঘটনায় চ্যালেঞ্জ অনুব্রত মণ্ডলের

0
71

মেট্রোলাইভ নিউজ ডেস্ক: ”রাজনৈতিক কারণেই অসীমকে খুন করা হয়েছে এটা নিশ্চিত। খুনিরা বিজেপির হতে পারে। বিজেপির বাইরেও হতে পারে। আবার যারা জেল খেটে এসেছে তারাও হতে পারে। ৩ দিনের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে। একেবারে সাজা করে দেওয়া হবে। চ্যালেঞ্জ করে বলছি।” বুধবার বিকেলে মঙ্গলকোটে তৃণমূল নেতা অসীম দাসের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সিউর গ্রামে যান বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। নিহত অসীম দাসের পরিবার পরিজনদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সান্ত্বনা এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে এমনটাই বললেন অনুব্রত মণ্ডল।

সোমবার সন্ধ্যায় কাশেমনগর বাজার থেকে বাইকে করে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় আটকে গুলি করে খুন করা হয় লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অসীম দাসকে। তারপর থেকে এখনও ওই খুনের ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই খুন করেছে তাঁকে। যদিও নিহতের পরিবার পরিজনদের সন্দেহ, শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই খুন হয়েছেন তিনি। এদিকে মঙ্গলকোটে তৃণমূল নেতা অসীম দাসের হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদে এবার সিট গঠন করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬ সদস্যের এই বিশেষ তদন্তকারী কমিটিতে রয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার (গ্রামীণ) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাস, কাটোয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কৌশিক বসাক। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন ওসি এসওজি, মঙ্গলকোট থানার আইসি, খন্ডঘোষ থানা এবং জামালপুর থানার ওসি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খণ্ডঘোষ থানার ওসি প্রসেনজিৎ দত্ত এবং জামালপুর থানার ওসি মিথুন ঘোষ এই দু’জনেই একসময় মঙ্গলকোট থানার ওসি’র দায়িত্বে ছিলেন। তাই মঙ্গলকোট এলাকা সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধীদের সম্পর্কে তাঁদের ধারণা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা তদন্তে সাহায্য করতে পারে মনে করেই প্রসেনজিৎ দত্ত এবং মিথুন ঘোষকে তদন্তকারী কমিটির মধ্যে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে ও এলাকায় ঘুরে যায় সিআইডির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

মঙ্গলবার অসীম দাসের দেহের ময়নাতদন্তের আগে শরীরের ভিতরে গুলির অবস্থান জানতে মৃতদেহের এক্স-রে করা হয়। চিকিৎসকরা জানতে পারেন, পাঁজরের হাড় ভেদ করে আটকে রয়েছে গুলিটি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি গুলি করা হয়েছিল অসীম দাসকে। তবে গুলিটি ছিল মাপে যথেষ্ট বড়। গুলির মাপ দেখে তদন্তকারী আধিকারিকদের ধারণা, থ্রি নট থ্রি রাইফেল জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল অসীম দাসকে। এছাড়া পেশাদার হাতেই গুলি চালানো হয় বলে একপ্রকার নিশ্চিত তদন্তকারী আধিকারিকরা। ঘটনার পর পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এই খুনে কে কে ছিল, কার বা কাদের নির্দেশে অসীম দাসকে খুন করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে