হাইজাম্প ফাইনালে যুগ্মভাবে প্রথম ইতালির তাম্বেরি এবং কাতারের বারশিম

0
190

মেট্রোলাইভ নিউজ ডেস্ক: ২.৩৭ মিটার লাফিয়ে হাইজাম্প ফাইনালে টাই হয় ইতালির তাম্বেরি আর কাতারের বারশিমের মধ্যে এরপর টাইয়ে লাফাতে গিয়ে চোট পান তাম্বেরি। বারশিম টাইয়ে চতুর্থবার লাফালেই কিন্তু একা সোনা জিততে পারতেন। কিন্তু তার হল না। সবাইকে অবাক করে দিয়ে অলিম্পিকে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি। চতুর্থবার না লাফিয়ে, অলিম্পিক অফিশিয়ালদের বারশিম প্রশ্ন করেন, দুটো সোনা দেওয়া যাবে।

অতঃপর। হাইজাম্প ফাইনালে যুগ্মভাবে প্রথম ইতালির তাম্বেরি এবং কাতারের বারশিম।

গত চার বছর ধরে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাম্বেরি আর বারশিম। কতটা গভীর সে সম্পর্ক, সেটা জানা ছিল না। দু’জনেই সোনার জন্য লড়ছিলেন। ২.৩৯ (৭ ফুট ১০ ইঞ্চি) মিটারটা আর টপকাতে পারছিলেন না। দুটো লাফের পর হঠাত্‍ই পায়ে চোট পান বন্ধু তাম্বেরি। এতটাই যে, আর নামতেই পারছিলেন না শেষ লাফে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ না থাকায় সোনা জিতে যাওয়ার কথা বারশিমেরই। ‘বন্ধুহীন’ কেউ হলে হয়তো সেই পথই বেছে নিতেন। আর তখনই বারশিম অভিনব পথটি বেছে নিলেন।

বারশিম ম্যাচ অফিসিয়ালদের গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আচ্ছা, আমি যদি শেষ লাফ থেকে নিজেকে উইথড্র করে নিই, তা হলে কী হবে? সোনাটা কি ভাগাভাগি হতে পারে দু’জনের মধ্যে?’ ম্যাচ অফিসিয়ালরা নিয়ম খুঁজে নিয়ে জানালেন, হ্যাঁ, সম্ভব! বারশিম সঙ্গে সঙ্গে রাজি। যে বন্ধুর সঙ্গে তাঁর এত গভীর সম্পর্ক, তাঁর সঙ্গে সোনা ভাগাভাগি করে নিতে অসুবিধা কোথায়? বরং, তিনি নিজেও তো চান, হঠাত্‍ চোট পাওয়া বন্ধুর মনে যেন চোট না লাগে। অলিম্পিক সোনা থাকুক দু’জনের কাছেই।

দুই বন্ধু সোনা জয়ের পর তাম্বেরির খুশির জোয়ার ধরার মতো ছিল না। তিনি বলেন, “বন্ধুর সঙ্গে এত সুন্দর একটা মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার থেকে আনন্দের আর কী হতে পারে। এটা সত্যি জাদুর মতো।” ম্যাচের শেষে বারশিমের মুখে শোনা যায়, “আমি জানি আমি যে পারফরম্যান্স এখানে করেছি তার জন্য আমি সোনা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ও (তাম্বেরি) একই কাজ করেছিল। তাই আমি এও জানি ও নিজেও সোনা পাওয়ার যোগ্য। এটা যা ঘটলো তার সত্যিই খেলাধূলার বাইরে। এই বার্তা আমরা তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিলাম।”

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে