বঙ্গ বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে এক্স ফ্যাক্টর আইটি সেল।

1
4168

এই জয় জনগণের জয়”। যেকোনো ভোট যুদ্ধ জেতার পর এই আপ্তবাক্যই সব দল এবং তাদের নেতাদের মুখে খুব চেনা শব্দ বন্ধনী। সাধারণত এই আপ্তবাক্যেই তারা তাদের জয়কে সসম্মানে দলীয় নেতা কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারন মানুষের প্রতি উৎসর্গ করে থাকেন। বাংলাতেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি কখনও। এবার বিজেপি রাজ্যে যে অভাবনীয় ভালো ফল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সেক্ষেত্রেও দলীয় নেতৃত্ব একই সমন্বয় বাক্য ব্যবহার করে তাঁদের জয়কে উৎসর্গ করেছেন বাংলার মানুষকে।তারপরও দলীয় নেতাদের মুখে মুখে ঘুরছে একটাই কথা। এই জয়ের নেপথ্যে কাজ করেছে আরও একটি ফ্যাক্টর। অবশ্যই তাই। রাজ্য নেতৃত্বতো বটেই রজজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও এককথায় মানছেন সেই এক্স ফ্যাক্টর এর কথা। কি সেই এক্স ফ্যাক্টর ? তাহল বিজেপি-র আইটি সেল। সোজা কথায় বললে বলাই যায়, বাংলায় এই অভাবনীয় জয়ের নেপথ্যে অন্যতম মূল কারিগর আইটি সেল। রাজ্যে গেরুয়া ঝড় তুলতে আইটি সেল দিন রাত এক করে যেভাবে খেটেছে তার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। বিরোধীরা সেখানে অনেকটাই পিছিয়ে।
একটু যদি সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে নজর রাখা তাহলেই চিত্রটা খুব সহজ হয়ে যাবে। তৃণমূলের যে সমস্ত নেতারা রয়েছেন তারা অনেকেই এখনও ফেসবুক বিষয়টি সম্পর্কে বিশেষ ওয়াকিবহাল নন। অনেকেই ভোটের কিছু আগে নিজেদের ফেসবুক পেজ খুলেছেন সেখানে বঙ্গ বিজেপি নেতাদের চেনা মুখ যারা তারা অনেক আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক আগে থেকেই বেশি অ্যাক্টিভ। তাদের ভক্তদের যে সব সব পেজ এবং গ্রুপ রয়েছে তার সংখ্যাও প্রচুর।
এই সব কিছুর মূলে আইটি সেল। বিজেপির প্রতিটি নির্বাচনী প্রচার ইস্যুগুলিকে সাধারন মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বলা যায় তাদের এক্কেবারে গুলে খাইয়েছে  এই আইটি সেল । ফলে যে কিনা কিছুদিন আগেও কেষ্ট ঠাকুরেই সন্তুষ্ট ছিল সেও এখন মাঝে মাঝেই বলে উঠছে ‘জয় শ্রী রাম’।   ২০১৪ সাল থেকেই ভারতীয় জনতা পার্টি মূলত ইন্টারনেট দুনিয়াকে তাদের প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু দেশ জুড়ে। তার বড়সড় ডিভিডেন্ডও মেলে লোকসভা নির্বাচনে। রীতিমত মোদী ঝড় ওঠে দেশজুড়ে।বিশাল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় আসে মোদী সরকার। এবারেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। কার্যত মোদী ঝড় সুনামিতে পরিনত হয়েছে। বাংলায় তখনও দাগ না কাটতে পারলেও এবারের লোকসভা নির্বাচন কে টার্গেট করে ২০১৮ থেকেই বিজেপি তাদের বাংলার আইটি সেলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়। বিজেপির সদর দফতর ৬ মুরলীধর সেন লেন থেকে দক্ষিণ কলকাতায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বর্গ ফুটের একটি অফিস নিয়ে কাজ করেছে আইটি সেল। আর এবারেও তার ফল মিলেছে হাতেনাতে। ২ থেকে একলাফে ১৮ টি লোকসভা আসন এখনবঙ্গ বিজেপির ঝুলিতে।
বিজেপি’র আইটি সেলের সদস্য সংখ্যা দেখলে মাথা ঘুরে যেতে পারে। সুশাসন সংকল্প বিজেপি বিকল্প এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ২ লক্ষ ৮৫ হাজার। নরেন্দ্র মোদী সেনা গ্রুপের সদস্য ৭৪ হাজার , আরএসএস গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ২১ হাজার , হিন্দু সংগঠনে সদস্য সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৫ হাজার, শক্তিশালী বিজেপি শক্তি ভারতের সদস্য ২৬ হাজার, বিজেপি ওয়েস্ট বেঙ্গলের সদস্য ১০ হাজার। এই আইটি সেলই বানিয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও এবং মিম। যার ফল মিলেছে হাতে গরম।
তবে এর পাশাপাশি  আরও একটি সেল সবার অলক্ষে নিজেদের কাজ করে গেছে।
সেটি হল বিজেপি পঃবঃ শাখার মিডিয়া সেল। তাদের কাজ ছিল মুলত দলের সঙ্গে সমস্ত সংবাদ মাধ্যমের যোগসূত্র বজায় রাখা। প্রতিটি লোকসভা ধরে ধরে প্রতি মুহূর্তে তারা দলীয় প্রচারের যাবতীয় তথ্য সমানতালে পৌঁছে দিয়েছে সংবাদ মাধ্যম গুলির কাছে। রাজ্য সদর দপ্তরের পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা, সহ প্রতিটি জেলায় নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরি করে  নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন এই মিডিয়া সেলের প্রায় ৪০০ কর্মী। এখন দলের সাফল্যে তারাও বেশ উজ্জীবিত। রাজ্য বিজেপির মিডিয়া সেল ইন চার্জ সপ্তর্ষি চৌধুরী বলেন, আমাদের পরবর্তী লক্ষ বিধানসভা। সেই লক্ষেই এবার আমরা নিজেদের প্রস্তুত করছি।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে