ত্রিপুরায় অভিষেকের আগমনের আগেই ছেঁড়া হল তৃণমূলের ফ্লেক্স, ব্যানার

0
140

মেট্রোলাইভ নিউজ ডেস্ক: পূর্বঘোষিত অনুযায়ী সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ ‘ত্রিপুরেশ্বরী দেবী’র মন্দিরে পুজো দিয়ে ‘মিশন ত্রিপুরা’ শুরু করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্ধ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে রয়েছেন ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৩’এ ত্রিপুরা জয়ের লক্ষ্যে রাজনৈতিক রণনীতি তৈরি করতেই অভিষেকের এই সফর বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাই তাঁর সফরের জন্যে ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রস্তুতি তুঙ্গে।

অভিষেককে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর থেকে শহরে প্রবেশের পথ সাজানো হয়েছে বড়বড় ব্যানার, হোর্ডিং, ফ্লেক্স দিয়ে। কিন্তু তারমধ্যেই ঘটল বিপত্তি। এদিন দিনের আলো ফুটতেই দেখা গেল আগরতলায় তৃণমূলের সমস্ত ব্যানার, ক্লেক্স, হোর্ডিং ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের দিকে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, দলীয় কর্মীদের মনোবল ভাঙতে এই আচরণ। যদিও বিজেপি সরকারের এই আচরণের পর অভিষেকের ‘বিপ্লব বিরোধী’ সুর সপ্তমে তুলতে আরও বেশি সুবিধা হল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, ত্রিপুরায় ক্ষতায়নের লক্ষ্যে সোমবার একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। দলীয় সূত্রানুযায়ী, বিমানবন্দরে নেমে মাতাবাড়িতে ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর আগরতলায় ফিরবেন অভিষেক। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলন করবেন তিনি। সাংগঠনিক বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন। অবশ্য সোমবার সন্ধ্যেতেই কলকাতা ফিরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে অভিষেকের।

প্রসঙ্গত, ২১শে’র বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিপুল মার্জিনে জয়লাভের পর এই মুহূর্তে জাতীয়স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রসার ঘটাতে মরিয়া দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যেই ত্রিপুরায় পা রাখলেন অভিষেক। কারণ, ছাত্র-যুব সমাজে অনেকবেশি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তাঁর। এদিকে, তাঁর সফরের আগে জল মাপতে ত্রিপুরায় আসেন প্রশান্ত কিশোরের টিম আই প্যাক। সেই টিমের সদস্যদের হোটেলে ‘আটকে রাখা ও ঘরবন্দি’ করার মতো অভিযোগের পর রাজনীতির পারদ চড়েছে। সুতরাং এদিন অভিষেকের বক্তব্যে দলীয় কর্মীদের উপর হামলা, পুলিশি নির্যাতন-সহ গণতন্ত্র, উন্নয়ন প্রশ্নে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ স্পষ্ট ফুটে উঠবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিকে, দিল্লি বাদে ত্রিপুরাকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর বাঙালি প্রধান ত্রিপুরায় সাধারণ মানুষের মনে তৃণমূলের কার্যকলাপ নিয়ে আগ্রহ অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাই সবমিলিয়ে অভিষেকের সফর নিয়ে সেরাজ্যে সাজো সাজো রব। হাত জোড় করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সহ লেখা ‘ত্রিপুরা দিদিকেই চায়’ ফ্লেক্সে ভরে গিয়েছে রাস্তাঘাট। একইভাবে তৃণমূল বহুল প্রচলিত ‘খেলা হবে’ স্লোগানের পাশাপাশি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ‘ত্রিপুরা কইতাসে মমতাদিদি আইতাসে’ গান। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের সফর বিজেপি সরকারের চিন্তা আরও একধাপ বাড়িতে দিতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে