সংগ্রামপুর বিষমদ কাণ্ডের দ্বিতীয় মামলাতে খোঁড়া বাদশা’র অমৃত্যু সাজা ঘোষণা করল আদালত

0
254

মেট্রোলাইভ নিউজ ডেস্ক: সোমবারই সাজা ঘোষণা হল। বিষমদ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নূর ইসলাম ফকির ওরফে খোঁড়া বাদশা’র জাবজ্জীবন অর্থাৎ আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা শোনার আদালত। দীর্ঘ আট বছর ধরে মামলা চলার পর শুক্রবার ২০১১ সালের সংগ্রামপুর বিষমদ কাণ্ডের আরও একটি মামলায় রায় ঘোষণা করে আলিপুর আদালত। বিষমদ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত খোঁড়া বাদশাকে মগরাহাট থানার দায়ের করা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। ভারতীয় দন্ডবিধীর ২৭৩ /৩০২ / ৩২৬ /এবং ৩২৮ ধারা সহ বেঙ্গল এক্সাইজ অ্যাক্ট এর ৪৬এ ধারায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন আলিপুর আদালতের সিক্স এডিজেএম। আজ ছিল সেই মামলার সাজা ঘোষণার দিন। তবে প্রমানের অভাবে বাকি সাত অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়েছে।

২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবার মহকুমার উস্তি-সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিষমদ খেয়ে অন্তত ১৭৩ জনের মৃত্যু হয়। তখনই এই ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। যার একটি মগরাহাট ও অন্যটি উস্তি থানায়। পরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিষমদ কাণ্ডের তদন্ত ভার হাতে নেয় সিআইডি। খুন, ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় ও পশ্চিমবঙ্গ আবগারি আইনে দু’মাসের মধ্যে চার্জশিট জমা করেছিল সিআইডি। এতদিন ধরে এই মামলার শুনানি চলছিল। আলিপুর আদালতে।

তদন্তে উঠে আসে নুর ইসলাম ফকির ওরফে খোঁড়া বাদশার নাম। জানা যায়, যে চোলাই মদ খেয়ে এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল তা বানাত এই খোঁড়া বাদশা। তার স্ত্রী শাকিলা বিবিও এই কাণ্ডে জড়িত ছিল বলে জানা যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ২৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

ছ’বছরের বেশি সময় ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলার পরে ২০১৮ সালে এই উস্তি থানার মামলার রায় হয় আলিপুর আদালতে। খোঁড়া বাদশা-সহ চার জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন আলিপুর আদালতের অতিরিক্ত জেলা বিচারক পার্থসারথি চক্রবর্তী। খোঁড়া বাদশার স্ত্রী শাকিলা বিবি-সহ ৬ জনকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়। উস্তির মামলার এই রায়ে দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্তদের যাবজ্জীবনের সাজা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, তখন সবেমাত্র বাংলার ক্ষমতা দখল করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন পরিবর্তন এর সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামে সরকার। বিষমদ খেয়ে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের এই সিদ্ধান্তে চরম বিতর্ক তৈরি হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে